এহসান বিন মুজাহির, দীপ্ত নিউজ ডটকম :
অর্থাভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে না পারা শ্রীমঙ্গলের চা শ্রমিকের মেধাবী সন্তান সুজন রবিদাসের পাশে দাঁড়ালেন মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র ফজলুর রহমান। মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউরা চা বাগানের চা শ্রমিক নারায়ণ রবিদাসের মেধাবী সন্তান সুজন রবিদাস নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চান্স পেয়েও ভর্তি ফির ১৬ হাজার টাকা যোগাতে না পারায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। ঠিক এসময়ই মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখালেন মৌলভীবাজার পৌরসভার জননন্দিত মেয়র ফজলুর রহমান।
‘টাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেননা চা শ্রমিক সন্তান’ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই নিউজ প্রকাশিত হলে সংবাদটি নজরে আসে মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমানের। গতকাল বিকালে তিনি সুজন রবিদাসকে মৌলভীবাজার পৌরসভার কার্যালয়ে ডেকে এনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ফি বাবত নগদ ১৬ হাজার টাকাসহ কিছু পোষাক তার হাতে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালা এবং বিটিভির জেলা প্রতিনিধি হাসানাত কামাল।
রবিদাসের সাহায্যে এগিয়ে আসা মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান জানান-‘টাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেননা চা শ্রমিক সন্তান’এই সংবাদটি বিভিন্ন পত্রিকায় দেখে আমি সুজন রবিদাসকে আমার অফিসে আমন্ত্রণ কওে তার সাহায্যে এগিয়ে আসি। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ১৬ হাজার টাকা দিতে পারে ভালো লাগছে। আশা করছি এখন সে ভর্তি হতে পারবে। তাকে কিছু কাপড়ও উপহার দিয়ে দিলাম। আমাদের পিছিয়ে পড়া সমাজের মানুষজন এগিয়ে যাক, সে প্রত্যাশা করি। এই চা-বাগানেও অনেক মেধাবী সন্তান আছে। মেধা-দক্ষতা-যোগ্যতায় বদলে দিক তাদের বর্তমান অবস্থা। আমাদের মেধাবী সন্তানেরা টাকার জন্য লেখাপড়া করতে পারবেনা, এটা হতে পারেনা। পিছিয়ে পড়া সমাজের মানুষকে এগিয়ে নিতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সুজনের বাবা চা শ্রমিক নারায়ণ বলেন-সুজনকে নোয়াখালী নিয়ে যাওয়া আসা এবং বইপত্র ও ভর্তির টাকাসহ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দরকার। এবং ভর্তির পর তার থাকা খাওয়া বাবদ প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা লাগবে। আমার ইচ্ছে থাকলেও আমি পারছিনা। সরকার বা কোন বিত্তবান এগিয়ে আসলে তবেই সম্ভব সুজনের লেখা-পড়া নিয়মিত হবে। তিনি বলেন, আমাদের ঘরে অনেক দিন খাবার থাকেনা, প্রায়ই অর্ধেক খাবার সবাই মিলে খাই। কিন্তু আমার ছেলে এত কিছুর মধ্যেও লেখাপড়া থেকে তার মনোযোগ নষ্ট করেনি।
ভর্তির টাকা পেয়ে সুজন বলেন, আমি খুশি এবং আনন্দিত যে এখন আমিলেখা-পড়া চালিয়ে যেতে পারব। এই সংবাদ প্রকাশের পর আরো অনেকেই আমাকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন। সুজন মেয়র ফজলুর রহমান, চেয়ারম্যান প্রাণেশ গোয়ালাসহ সাহায্যে এগিয়ে আসা সবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সুজনে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে মানুষের সেবা করতে চান। অদম্য মেধাবী সুজন অভাবের সংসারের মানুষের সাহায্য নিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ এবং এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৫৮ পেয়ে কৃতিতের স্বাক্ষর রাখেন।






